Monday, February 12, 2018

মতামতের ফুটনোট (২)

অটোয় যে শিশুটি নিজের মায়ের শ্লীলতাহানি দেখল, সে একদিন বাস্তবের বিজয় চৌহান কেন হবে না ? কেন অটোসমেত একটা বেজন্মার বাচ্চাকে জনসমক্ষে জ্বালিয়ে দেবে না ন্যাপথা মিশ্রিত কাটা তেলে ? বাদামী ধোঁয়া মিনিট পঁচাত্তর পরে বেরিয়ে এসে কেন জানিয়ে দেবে না - " রোসটেড !" ?

মতামতের ফুটনোট (১)

মল্লারপুরে বাঘের অস্তিত্ব সত্যি প্রমাণ হলে এলাকাটিকে একটি সুস্থ অভয়ারণ্য রূপে গড়ে তোলা হোক এবং এলাকার দ্বিপদ অধিবাসীদের খাঁচায় ভরে অন্য জায়গায় পুনর্বাসন দেওয়া হোক । #ফরেস্ট_ইজ_দ্য_নিউ_সিটি

Wednesday, April 15, 2015

নাইটস্কোপ ২

আপিস ফেরতা জনপদের বৃষ্টিস্নানের শব্দে  জাগে তীব্র রামধনুলোভ ,
অব্যক্ত , অদম্য ।
রাতের শহর ফর্মালিটির মেক আপ , ধুলো ধোঁয়া ধুয়ে হাল্কা হলে
আমি কনট্রাস্ট খুঁজেছি বহুভাবে, বহুবার -
ঠিক সেই বর্ণালী ,
যেখানে ভোগ্যপণ্য আর জীবন ডি এন এ -র দুই তন্তুর মতো জড়াজড়ি করে মিশে যাচ্ছে
কোনও এক সঙ্গমে ।
এই ক্রোমাটোগ্রাফিক্যাল  মিলনের কোনও দলিল নেই , কোনও আর্কাইভ এর খোঁজ রাখেনি ।
তুমিও চেয়েছ , আর আমিও -
বন্ধ আলমারি সাফসুতরো হলে কোনও এক কোণ থেকে উঁকি দেবে বয়ঃসন্ধির ক্রনিকল ;
মলাট থেকে মলাটে কিছু অকৃত্রিম রঙ ,
গাঢ় , উষ্ণ  এবং স্পেকট্রামে লাল ঘেঁষা  -
নিজের ক্রোমোজম কে না ভালবাসে ।
আশায় বুক বেঁধে পকেটমানি খসিয়ে ট্যাক্সি নিয়েছি দুজনেই ,
খুঁজতে বেরিয়ে এসেছি ,
হলই বা  ভিন্ন দুই পথে , ভিন্ন শহরে । 
তুমিও দেখেছ , আর আমিও -
সিক্ত শহরে সার বেঁধে রণপা-ওলা গাড়ি ।
কখনো দাঁড়িয়ে আছে, কখনো এগিয়ে চলেছে 
হলুদ , লাল ভীষণ লম্বা সব পা গুলো ,
ঘন কালো ব্যাক গ্রাউন্ডে অসামান্য সব পপ্লিনের পাজামা ।

ওরা কতোটা দূর যায়, কোথায় বাঁক নেয় , দাঁড়িয়ে ঘুমায় কিনা -
এসব জানতে চেয়ে এগিয়েছি যখন পথ আটকেছে সিগ্ন্যালপোস্টের পায়ের তলায়
ঢেউ খেলে যাওয়া রুহ আফজা শরবত ।
শরবত চোখ দিয়ে চেখে ঠাণ্ডা হচ্ছি , তুমিও শর্করাভয়হীন । 
এমন সময় প্রচণ্ড জোরে হুঁশিয়ারি শব্দ ।
ভাব্লাম যুদ্ধ লাগলো বুঝি । 
ফিরে দেখি সার সার ডাকাবুকো গাড়ি , সবাই রণপা-ওলা ,

চলেছে ক্লান্তিহীন, ক্লান্তিকর রাতের অভিসারে  ।

নাইটস্কোপ ১

মিশকালো অন্ধকার গলিপথে বিদ্যুতবেগে সাইকেলের  চাকা ছুটে গেলে
ঠিক সাইকেলের চাকার দাগের পাশেই অতি ধীরে , প্রায় নিঃশব্দে থিতিয়ে পড়ে
কালো রেশম ।
যে কোনও যাত্রা মানেই তো বুনন ;
অস্তিত্বের সঙ্গে অভিজ্ঞতার , অতি নিবিড় ভাবে  ।
গতিময়তার  ঠিক পাশাপাশি থেকে যায় ,
বা হয়তো  কিছুটা পিছিয়েই ,
লাজবাব , বিপরীতধর্মী এই গতিহীনতা , নিরুদ্বেগ অধঃক্ষেপ ।
নির্যাস রেশম একরঙা নয়,
হয়তো পুরোটাই  কালো নয় ।
কোনও একটি ক্ষণজন্মা তন্তু কোনও এক মাহেন্দ্রক্ষণে নিশ্চিত পেয়েছিল নখাগ্র চন্দ্রালোক ;
আলো-পাওয়াদের কয়েকটি তাই উজ্জ্বল সাদা ।
খান কয়েক তন্তু তাদের অগ্রভাগে যতসামান্য আলো তুলে নিয়েই গুলে দিয়েছিল অন্ধকারে ,
চেখে দেখতে চেয়েছিল অ্যাডভেঞ্চার  ;
তারা সাহসী , কমপ্লেক্স ।
কমপ্লেক্সিটির রঙ ধূসর ।
কর্মকাণ্ড এগিয়েছে ,
অন্ধকার গলি আরও অন্ধকার হয়ে তারপর ধীরে ধীরে ফরসা ।
যেমনটা হবার ছিল , নিয়ম মেনেই ।
আরও খানিক  প্রৌঢ়ত্বে ঢলে পড়ল চিরযুবকের নামভূমিকার কপট অভিনেতা -

সময়  ।।

Monday, July 21, 2014

ঝড় থেমে হেঁটে আসা কিছুদূর

(১)
ঝড়ে ডানা ভাঙা পাখিরও কি পুনর্বাসন হয়?
আর উড়তে পারবেনা এ সত্য সামনে আসার পরেও
সে কি আর পাখি থাকে?
পাখি জীবন শেষ হলে কি সে মানুষ হয়ে যায় ?
মানুষের তো পুনর্বাসন হয় , তাই না ?

(২)
বাবা বলতেন জীবনের মাত্র পাঁচ শতাংশে কোনও সঙ্কট নেই ।
আর বাকিটা জুড়ে শুধুই কুয়াশা ,
নভেম্বরের শেষের দিকের মতো করে ।
কখনো শহরের কুয়াশা, কখনো বা শহরতলির।
খুব খরচের সময়ে এক নভেম্বরেই রিটায়ার
করেছিলেন বাবা ।
(৩)
আজকের মেঘ কেটে যেতেই পারে ,
ধরে নাও কেটে যাবেই ।
হয়তো কালই ।
অনেকটা গত কালকের মতো সুদিন ফিরে আসেও বা যদি ,
জেনো আজ-কাল চিরটা কালের মতোই গত হবে ।
(৪)
বহুবার ভেবেছি - অতীত বইছে , না বর্তমান ?
না কি নিরন্তর যা বয়ে চলেছে সেটাই ভবিষ্যৎ ?
পরে বুঝেছি কালভেদ বলে আসলে কিছু হয়না ।
অন্তিমে দাঁড়িয়ে আছে ভবিতব্য ---
সেখানে পৌঁছনোর আগে অবধি বাকি সবটাই অলস - নিরলস যাত্রা !

ভেবেছ কি এইভাবে ?

এই তো আর কটা দিন ,
মানে আর ক'দিনই বা !
ধরেই নাও না শত্রু - মিত্র বলে কিছু নেই ।
হার-জিত বলেও কিছু হয়না।
ভাবতেই পারো সম্মান - অসম্মানের রঙিন বেলুন গুলো
সব রাতেই ফেটে গেছে ।
ফাটা বেলুন গুলোকে আর জন্মদিনের পরের সকালে
তুলে দেখে নাকি কেউ ?

এঁড়ে তক্ক কোরো না -
কে শেখাল তোমায় যে জন্মদিন - মৃত্যুদিন ,
আগের রাত - পরের সকাল বলেও কিছু হয়না ?

Sunday, June 1, 2014

ছুটকথা ৯

এটাকে জঙ্গলের আইন বলছ ?
জঙ্গলের সংবিধান জেনেছ , পড়েছ নিশ্চয়ই ?
কই , দেখাও তো খুলে ,
কোন পাতার কোন অনুচ্ছেদে লেখা আছে ,
অকারণে অত্যাচারের কথা ,
ফিরে ফিরে এসে ছিঁড়ে – খুঁড়ে ফেলার নিদান ।
‘জঙ্গলের আইন মেনে চলা’দের জংলী বল তো ?
ভাল কথা ;
বলার সময় এত ক্রূর হাসি , তাচ্ছিল্যের হাসি কেন চোখে – মুখে ?
ভাঙা আয়না দেখো সাহসে কুলালে ,
একশো – হাজার টুকরোয় দেখো নিজেরই নানা ছবি ।
দেখবে একটা না একটা ছবি এমন পাবেই ,
যেখানে মুখ থেকে মুখোশ হটে গেছে ।
সংবিধান কে নিজের সুবিধামত আরও একটু
খারাপ করে নিও !