Monday, July 21, 2014

ঝড় থেমে হেঁটে আসা কিছুদূর

(১)
ঝড়ে ডানা ভাঙা পাখিরও কি পুনর্বাসন হয়?
আর উড়তে পারবেনা এ সত্য সামনে আসার পরেও
সে কি আর পাখি থাকে?
পাখি জীবন শেষ হলে কি সে মানুষ হয়ে যায় ?
মানুষের তো পুনর্বাসন হয় , তাই না ?

(২)
বাবা বলতেন জীবনের মাত্র পাঁচ শতাংশে কোনও সঙ্কট নেই ।
আর বাকিটা জুড়ে শুধুই কুয়াশা ,
নভেম্বরের শেষের দিকের মতো করে ।
কখনো শহরের কুয়াশা, কখনো বা শহরতলির।
খুব খরচের সময়ে এক নভেম্বরেই রিটায়ার
করেছিলেন বাবা ।
(৩)
আজকের মেঘ কেটে যেতেই পারে ,
ধরে নাও কেটে যাবেই ।
হয়তো কালই ।
অনেকটা গত কালকের মতো সুদিন ফিরে আসেও বা যদি ,
জেনো আজ-কাল চিরটা কালের মতোই গত হবে ।
(৪)
বহুবার ভেবেছি - অতীত বইছে , না বর্তমান ?
না কি নিরন্তর যা বয়ে চলেছে সেটাই ভবিষ্যৎ ?
পরে বুঝেছি কালভেদ বলে আসলে কিছু হয়না ।
অন্তিমে দাঁড়িয়ে আছে ভবিতব্য ---
সেখানে পৌঁছনোর আগে অবধি বাকি সবটাই অলস - নিরলস যাত্রা !

ভেবেছ কি এইভাবে ?

এই তো আর কটা দিন ,
মানে আর ক'দিনই বা !
ধরেই নাও না শত্রু - মিত্র বলে কিছু নেই ।
হার-জিত বলেও কিছু হয়না।
ভাবতেই পারো সম্মান - অসম্মানের রঙিন বেলুন গুলো
সব রাতেই ফেটে গেছে ।
ফাটা বেলুন গুলোকে আর জন্মদিনের পরের সকালে
তুলে দেখে নাকি কেউ ?

এঁড়ে তক্ক কোরো না -
কে শেখাল তোমায় যে জন্মদিন - মৃত্যুদিন ,
আগের রাত - পরের সকাল বলেও কিছু হয়না ?

Sunday, June 1, 2014

ছুটকথা ৯

এটাকে জঙ্গলের আইন বলছ ?
জঙ্গলের সংবিধান জেনেছ , পড়েছ নিশ্চয়ই ?
কই , দেখাও তো খুলে ,
কোন পাতার কোন অনুচ্ছেদে লেখা আছে ,
অকারণে অত্যাচারের কথা ,
ফিরে ফিরে এসে ছিঁড়ে – খুঁড়ে ফেলার নিদান ।
‘জঙ্গলের আইন মেনে চলা’দের জংলী বল তো ?
ভাল কথা ;
বলার সময় এত ক্রূর হাসি , তাচ্ছিল্যের হাসি কেন চোখে – মুখে ?
ভাঙা আয়না দেখো সাহসে কুলালে ,
একশো – হাজার টুকরোয় দেখো নিজেরই নানা ছবি ।
দেখবে একটা না একটা ছবি এমন পাবেই ,
যেখানে মুখ থেকে মুখোশ হটে গেছে ।
সংবিধান কে নিজের সুবিধামত আরও একটু
খারাপ করে নিও !

ছুটকথা ৮

তিনতলা থেকে ফেলা বিস্কুটের টুকরো , মাছের কাঁটা
বা মাংসের হাড় ঠিকমতো মাটি ছোঁওয়ার আগেই
নিশ্চিহ্ন হয় আমাদের পাড়ায় ।
এ পাড়ার কুকুরছানারা
এবং বেপাড়ার কুকুরছানা রা
মরুশহরীয় গরমে তৃষিত ,
খাদ্যাভাবে পাঁজর -সর্বস্ব ও রিক্ত ,
প্রবল তিতিবিরক্ত ।

ছুটকথা ৭

ভুল বুঝতে তেমন বড় কোনও কারণ লাগে না ।
গোটা কয়েক অজুহাত লাগে কি ? হয়তো বা !
যা জানি -
দুটো স্ট্যান্ড পয়েন্ট লাগে ,
একটা ডিফারেন্স লাগে ,
আর বেশি কিছু না ;
একটু ইন্টেনশন , এক- আধটু মোটিভ
ধিমে আঁচের ছোট একটা ফ্লেম ,
ব্যাস ! বাকিটা প্রায় অটোম্যাটিকই -
আটার ইনফ্ল্যামেশন ।

ছুটকথা ৬

আমি বুর্জোয়া হবো না ,
মিছামিছি প্লুটার্ক ও না ।
খিদে পেলে বড় সাধ হয়
ব্ল্যাকহোল হবো ,
এই ঘোর কলিকালে ।
শুষে খাবো সব কিছু -
তাজা – বাসি , ধনরাশি ;
থাকবেনা পড়ে কারও তরে
এতো টুকু , কোনও ঘরে ।
এমন হারাবে লোকে সব কিছু
অতল গহ্বরে ,
থাকবেনা প্রাণে কোনও দুঃখ – শোক
পড়বেনা কিছুতেই মনে -
ছিল কি আসলে কিছু , কোনদিন ,
কোনও কোণে , কোনওখানে ?

ছুটকথা ৫

আগে বেশ কিছু নাটকে অভিনয় করেছি ।
যা করেছি সেসব নেহাতই শখে ,
বলার মতো তেমন কিছু না ।
কখনো আদেশে , কখনো আবদারে , কখনো অনুরোধে ।
এখন অন্য লোকের সাফল্যে
সুখী ও খুশি মানুষের ভূমিকায় নিরন্তর অনবদ্য
অভিনয় করে চলেছি ।
এটাও বলার মতো কিছু নয়।
সবাই তো করে থাকে !
বেশ ভালোই পারফর্ম করে থাকে ।

ছুটকথা ৪

গাছে থাকা সিল্কওয়ার্মেরা ও কাছে থাকা সিল্কওয়ার্মেরা
যত্রতত্র মনে করিয়ে দিচ্ছে –
এসময় আদরের সময় ।
এ সময় আশ্রয় নেবার, আশ্রয় দেবার ।
জামার কলার , পাঞ্জাবির পকেট ও
মাথার চুল – এর সবকটিই এখন উইক এন্ড কাটানোর
ভায়াবল অপশন ।

Saturday, May 31, 2014

ছুটকথা ৩

গাছ-ও ভ্রম , পাখিও ভ্রম ,
তাই পাখির উড়ে যাওয়াটাও নিখাদ ভ্রমই ।
রিয়্যালিটি বলতে শুধু মানুষ , ক্যামেরা ও তিলাপিয়া -
নাকি এও এক ভ্রমেরই বিলাসিতা ,
সুখী প্রণয়যুগলের মতো ?

ছুটকথা ১

অজন্তা , প্রথমে আমার সহপাঠিনী ছিল ;
পরে বাঘ – সিংহ পুষে জনপ্রিয় সার্কাস হল ।
তখনো দেখতে যেতাম ,
দেখতে পেতাম ও , তবে দূর থেকে ।